Saturday, August 20, 2016

কবিতার কষ্টগুলো - Kobitar Koshto Gulo

রুনা : এই নাও তোমার দেয়া সব গিফট। আমি আর আমাদের রিলেশনটা ক্যারি করতে পারছিনা।

জাহিদ :
তোমার চোখের মায়ায়
নিকষ আধার ছায়ায়
আমার সত্বার অপমৃত্যু
তোমায়ই না পাওয়ায়



রুনা : ফাইজলামি বন্ধ রেখে আমার কথা না শুনলে আমি চলে যাবো।

জাহিদ : আমি আবার কি করলাম?

রুনা : তুমি কি করনাই তাই বল। আমার কোন ভ্যাল্যু তোমার জীবনের নেই যতটা না তোমার কবিতা। উঠতে কবিতা, বসতে কবিতা, শুধুই কবিতা আর একমাত্র আমি তোমার কাছে গুরুত্বহীন।

জাহিদ : কি বলছো তুমি? কবিতা হলো আমার প্যাশন। তুমিই না ফেয়ারওয়েলে আমার আবৃত্তি শুনে আমাকে ভালোবেসেছিলে? তুমিই না মাত্র একমাস আগেই বলতে আমার চাইতে আমার কবিতা তোমার বেশি ভালো লাগে। এখন কি দোষ করলো কবিতা?

রুনা : জীবনের একটা সময় মানুষ একটা ঘোরের ভেতর থাকে। যখন বাস্তবতা সামনে আসে তখন ঘোরটা কেটে যায়।

জাহিদ : তুমি আমার জীবনে না থাকলে আমার জীবনটা যে থমকে যাবে রুনা।

রুনা : আমার কিছুই করার নেই জাহিদ। বাসা থেকে মা-বাবা অনেক চাপ দিচ্ছিলো বিয়ের জন্য। শুধু তোমার জন্য অনেক বিয়ের অফার ফিরিয়ে দিয়েছি কিন্তু এবার আর আমি আটকাতে পারছিনা।

জাহিদ : এবারের পাত্র নিশ্চই মালদার পার্টি, তাই আর না বলতে পারলেনা তাইনা?

রুনা : শোন জাহিদ, কবিতা দিয়ে পেট ভরেনা। বাংলাদেশে কেউ কবিতা বিক্রি করে কোটিপতি হতে পারেনি। সব কবি শেষ সময়ে করুন ভাবেই মারা গেছে অর্থকস্টে।

জাহিদ : হয়তো তোমার কথা সত্যি। এখন আমি কি করলে তুমি খুশি হও? তোমার খুশির জন্য আমি সব কিছু করতে পারি।

রুনা : তোমার মোবাইল থেকে আমার সব ছবি ডিলেট করে দাও। আমি তোমাকে একটু আগেই আমার ফেসবুক থেকে ব্লক করে দিয়েছি। আমার সাথে আর কেন যোগাযোগ রাখতে চেস্টা করবেনা।

জাহিদ : আমিও অনেক কিছু ফেরত চাই।

রুনা : কি?

জাহিদ : আমার জীবনের প্রথম চুমু। তোমার প্রতি আমার সকল প্রেমময় দৃস্টি। শেষ বিকেলের রোদ চুরি করে তোমাকে দেয়া সময়গুলো। সকালের মৃদ্যুমন্দ বাতাসে ফাঁকি দিয়ে তোমার সাথে দেখা করার সময়গুলো।

রুনা : তুমি আবার কাব্যিক হয়ে যাচ্ছো জাহিদ। ট্রাই টু ফেস দ্যা রিয়েলিটি। ইটস নট এ ড্যাম পয়েট্রি জাহিদ, ইটস হিউম্যান লাইফ।

জাহিদ : তবে শেষবার আমাকে দশটি মিনিট সময় দাও।

রুনা : সরি জাহিদ, তুমি আবার কোন কবিতা ফেঁদে বসবে। আমি গেলাম, তুমি ভালো থেকো।

রুনা হেটে অনেক দূর চলে গেছে...

জাহিদ :
আজ আমার মন ভালো নেই
সত্যি বলছি আমার কবিতারা ভালো নেই।
কিছুটা না বলা কথা না বলাই রয়ে গেল,
তাই আমার আজ মন ভালো নেই।
আমার কবিতার প্রতিটা লাইনে অক্ষরের মৃত্যু,
তাই আজ আর আমার মন ভালো নেই।
আমার হাতে আমার সকল কবিতার পরিসমাপ্তি,
আজ থেকে আর আমার মন ভালো নেই।


দীর্ঘ দশ বছর পর...

জাতীয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বসে আছে রুনা এবং তার স্বামী লুৎফর হোসেন। এবার তিনটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক, কবি, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, নাট্যকার জাহিদ হোসেইন। সবাই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে দেশ সেরা রত্নকে। রুনা জাহিদকে দেখে থমকে যায়। জাহিদ সামনের দিকে তাকিয়ে রুনাকে দেখে একটি হাসি দেয়।

উপস্থাপিকা : স্যার কেমন লাগছে আপনার? আপনার অনুভুতি টুকু দর্শক জানতে চায়। আপনি আজ সার্থক, আপনার সার্থকতার পেছনে কার অবদান বলে আপনি মনে করেন?

জাহিদ : আসলে আমার সার্থকতার পেছনে একজনের অবদান অবশ্যই আছে। সঠিক সময়ে সেই মানুষটা যদি আমাকে হিট মানে চরম ছ্যাঁকা দিয়ে ছেড়ে না যেতো তবে আজকের আমি আপনাদের সামনে থাকতাম না। এখনও হয়তো তার কোলে মাথা রেখে কবিতা লিখে যেতাম।

উপস্থাপিকা : ওহ দারুন গোপন একটা ঘটনা আজকে জানতে পারলো, তা স্যার আপনি আপনার ঐ প্রিয় মানুষটাকে কিছু বলুন। সে নিশ্চই এখন এই অনুষ্ঠানটা দেখছে।

জাহিদ :
তোমার চোখের মায়ায়
নিকষ আধার ছায়ায়,
আমার সত্বার অপমৃত্যু
তোমায়ই না পাওয়ায়।

ধন্যবাদ, ধন্যবাদ সবাইকে।

পুনশ্চ : কেউ খেয়াল করেনি তখন রুনা কাঁদছিল, কেউ এটাও খেয়াল করেনি রুনার চোখের জল দেখে জাহিদের চোখও ভিজে উঠছিলো। আসলে কিছু সম্পর্ক কখনও শেষ হয়না, হতেও হয়না, সেটা বহমান।

© https://www.amarblog.com/TUMPA-AKHTAR-PRIYA/posts/184881

No comments:

Post a Comment